জাতীয় পত্রিকা অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি এহসানুল মাহবুব লাব্বী জানালেন ‘নিউজপেপার অলিম্পিয়াড’ এর সাফল্য এবং পরবর্তী পরিকল্পনা। চ্যানেল আগামীর প্রতিবেদনে দেখুন অলিম্পিয়াডের সফলতার গল্প।

আগামী প্রতিনিধি: অলিম্পিয়াডের শুরুর গল্পটা কেমন ছিল?
লাব্বী: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক ধরনের অলিম্পিয়াড থাকলেও পত্রিকার মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কোনো আয়োজনই নেই। সেই চিন্তা থেকেই এই অলিম্পিয়াডের কাজ শুরু করি। মাত্র ১২০ টাকা হাতে নিয়ে কিছু ফর্ম ছাপাই। ফেসবুক এক্ষেত্রে সবচেয়ে সাহায্য করেছে। ফেসবুকে ঘোষণার দিন দুই পরই ৭৮ জন প্রতিনিধি পেয়ে যাই। যাদের নিয়ে পথচলা শুরু হয়।

আগামী প্রতিনিধি: এতো বড় একটা আয়োজনে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি?
লাব্বী: চ্যালেঞ্জ অনেক ছিল। নিউজপেপার অলিম্পিয়াড কী এটা বোঝাতেই অনেক সময় লেগেছে। পাশাপাশি যারা বিভাগীয় কিংবা জেলা পর্যায়ে যারা কাজ করেছেন, তাদের অনেককেই আমি সরাসরি চিনতাম না। এখানে বিশ্বাসের একটা বড় ব্যাপার ছিল। কিন্তু শুকুরিয়া যে, কোনো সমস্যা হয়নি। তাছাড়া অর্থায়নের বিষয় এবং শিডিউল ঠিক রাখাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।

আগামী প্রতিনিধি: এই অলিম্পিয়াড নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
লাব্বী: নিউজপেপার অলিম্পিয়াডকে একটা অনন্য উচ্চতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে অলিম্পিয়াড কমিটির স্বপ্নবাজ তরুণেরা কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, রাশিয়া, চীনসহ আরো অনেক দেশে অলিম্পিয়াড এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি লিবিয়া, মিশর সহ আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেও অনেক সাড়া পাচ্ছি।সফল এক অলিম্পিয়াড তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।

আগামী প্রতিনিধি: আপনি তো এখন দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র। এতো বড় আয়োজন করতে গিয়ে কি পড়ালেখার ক্ষতি হয়নি?
লাব্বী: পড়ালেখার তো কিছু ক্ষতি হয়ই। কিন্তু ব্যাপার হলো আমার বন্ধুরা যখন আড্ডা দেয়,তখন আমি সেই সময়টা কাজে লাগানোর চেষ্টা করি।রাতে অতিরিক্ত সময় পড়ে পুষিয়ে নিতে হয়। আর আমি সবসময়ই সারাদিনের কাজ গুলোকে ভাগ করে দেই।এতে অনেক সুবিধা হয়।

আগামী প্রতিনিধি: সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় অলিম্পিয়াডের সফল আয়োজন সম্ভব হয়েছে-এটা সত্যি। কিন্তু এমন কারোর কথা কি বলবেন যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল?
লাব্বী: আমাদের অলিম্পিয়াডে ৮৫০+ সদস্য আছেন। সকলের যৌথ প্রচেষ্টায় অলিম্পিয়াড সফল হলেও অলিম্পিয়াড কমিটির কিছু সদস্য আছেন যারা এতো বেশি পরিশ্রম করেছে যে নিজের কাছেই অবিশ্বাস্য লেগেছে। আমাদের অলিম্পিয়াড কমিটির গবেষণা সম্পাদক মহিবুল ইসলাম বাঁধন এর কথা বলতেই হয়। অলিম্পিয়াড কমিটির সবচেয়ে ছোট সদস্য হয়েও সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেছে। তাছাড়া মিডিয়া সম্পাদক ফাহিম, সহ সাধারণ সম্পাদক মাহিমা ছাড়াও বিনতি, যোগযোগ সম্পাদক তাহসিন ভাইয়া, সহ সভাপতি তপু ভাইয়ার অনেক বেশি অবদান ছিল। আর পুরো অলিম্পিয়াডে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে আমাদের সাধারণ সম্পাদক আফসানা রাত্রি মিশু আপু।

আগামী প্রতিনিধি: দেশসেরা পত্রিকা বিশারদ সাদিয়া শান্তাকে নিয়ে কিছু বলবেন?
লাব্বী: ১০ হাজার পত্রিকা বিশারদ থেকে সেরা কে খুজে নেওয়া সহজ ছিল না। একাডেমিক টিম কে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়েছে। জাতীয় প্রতিযোগিতার প্রশ্ন বানাতে দুই মাস সময় লেগেছে। তবুও সাদিয়া ৪০ এ ৪০ পেয়েছে। অবশ্যই সে একজন মেধাবী ছাত্রী। সাদিয়া পরিশ্রম করেছে বলেই সেরার শিরোপা মাথায় পরেছে। তাকে নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা আছে।

দেশসেরা পত্রিকা বিশারদ (২০১৯) সাদিয়া শান্তা

আগামী প্রতিনিধি: অলিম্পিয়াডের দ্বিতীয় বর্ষের আয়োজন নিয়ে কিছু যদি বলেন-
লাব্বী: দ্বিতীয় বর্ষের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এবার দেশের ৩০ টি জেলায় আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি আঞ্চলিক উৎসবের স্থানগুলোতে কর্মশালার আয়োজন ও করা হবে। অনেক নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আমরা সামনে হাজির হব।

আগামী প্রতিনিধি: এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে সমাজের কি কোনো পরিবর্তন হয়েছে?
লাব্বী: আমি বলব অবশ্যই পরিবর্তন হয়েছে। পত্রিকা পাঠে সবাই আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমরা তরুণ প্রজন্মকে পত্রিকা পাঠে উদ্বুদ্ধ করছি যা সমাজে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here