ইভান পাল ।।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি আমাদের আজকের এই লাল সবুজের বাংলাদেশ। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়ে আমরা নীল আকশে ঊড়ায় সবুজের মাঝে সূর্যের ঐ লাল আভার সেই বাঙ্গালি জাতি স্বত্বার প্রতীক ~~ বাংলাদেশের পতাকা।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর ত্রিশ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের ফলেই কিন্তু আমরা আমাদের এই দেশের স্বাধীনতার স্বাদ নিতে পারছি। নাহলে যা কোনো ভাবেই সম্ভব ছিলো না।

১৯৭১সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বর্বর নির্যাতন চালাই এদেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর। প্রায় সব ই ধ্বংস করে দেয়।রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সব সব।

কিন্তু, পাক বাহিনী ইতিহাসের আরেকটি জঘন্যতম কাজ করতে পিছু হটেনি। আর তা হচ্ছে— নীরিহ বাঙ্গালি নারীদের ধর্ষণ, হত্যা, নির্যাতন।

বাংলা পিডিয়া বলছে:
“ ১৯৭১ সালে পাক হানাদাররা এদেশের প্রায় দুই থেকে চার লক্ষ নীরিহ বাঙালি নারীকে ধর্ষণ করে।”
আজ তাদের ই একজনের গল্প প্রিয় পাঠক আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যাকেঁ বলা হয়ে থাকে ~ “একাত্তরের জননী”। একাত্তরের বীরাঙ্গনা কিংবা একাত্তরের নির্যাতিতা যাই ই ই বলি না কেনো তাকেঁ তিনি কিন্তু নিজেই বলে গিয়েছেন, তিনি একাত্তরের মা, একাত্তরের জননী।

রমা চৌধুরী

জন্মেছিলেন ১৪ অক্টোবর ১৯৩৬ সালের চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার পোপাদিয়া গ্রামে।

দেশ বিভাগের পরবর্তী সময়ের কথা বলছি—

তখনকার দিনে খুব একটা কেউ পড়াশুনার ধার ধারতো না। আর মেয়েরা তো ধর্মীয় পুস্তক পাঠেই সীমাবদ্ধ ছিলো বলা যায়। কেবল দু একটা ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যেতো।

তা হতে পারে এরকম যে— স্কুল, কলেজ।। কারণ, তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষা টা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলো না।

তো, রমা চৌধুরী ছিলেন এমন ই একজন, যিনি তৎকালীন সময়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামের নারীদের মধ্যে প্রথম নারী স্নাতকোত্তর। ভাবা যায় কি!

১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন রমা চৌধুরী। আর তারপরেই যোগদেন শিক্ষকতা নামক মহান পেশায়। ১৯৬২ সালে কক্সবাজার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে একাত্তরের জননী রমা চৌধুরী তারঁ কর্মজীবনের সূচনা করেন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকার দায়িত্ব পালন করেন।

তারঁ জীবনের সময়টা বেশ ভালোই যাচ্ছিলো।। কিন্তু ঐযে একটা কথা আছে না, প্রকৃতি নাকি কারো সুখ সহ্য করতে পারেনা। তাই ই বোধ হয়, তারঁ পরবর্তী জীবনে শুধু একের পর এক দুর্যোগ কেই মাথা পেতে নিতে হয়েছে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ছিলেন তিন পুত্রসন্তানের জননী । আর থাকতেন— পৈতৃক ভিটা পোপাদিয়ায়। তাঁর স্বামী ভারতে চলে যান। ১৩ মে সকালে হঠাৎ পাক সেনারা এসে চড়াও হয় তাঁর ঘরে। এ সময় দুগ্ধপোষ্য সন্তান ছিল তাঁর কোলে। এরপরও তাঁকে নির্যাতন করা হয়। তিনি সেই সময় থেকে মানসিক এক অসীম কষ্ট বয়ে বেড়ান। ঐযে বললাম, প্রকৃতি কারো সুখ জানি, সহ্যই করতে পারে না। তবে তিনি তারঁ জীবনের সব দুর্যোগের কাছে মাথা নত করেন নি। হেরে যান নি। জীবনের শেষদিন অব্দি তারঁ জীবন সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

সম্ভ্রম হারানোর পর পাক নরপশুদের হাত থেকে কোনরকমে পালিয়ে পুকুরে নেমে যখন আত্মরক্ষার জন্য লুকিয়েছিলেন, তখন পাক হানাদাররা গানপাউডার দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তাঁর ঘরবাড়িসহ যাবতীয় সম্পদ।

আর ঘরবাড়িহীন বাকি আটটি মাস তাঁকে তারঁ তিনটি শিশুসন্তান, সাথে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে জলে-জঙ্গলে লুকিয়ে বেড়াতে হয়েছে।

রাত হলে, তারঁ সেই পোড়া ভিটায় এসে কোনোমতে পলিথিন বা খড়কুটো নিয়ে মাথায় আচ্ছাদন দিয়ে কাটিয়েছেন। আর এসব ঘটনার বিবরন পাওয়া যায় তারঁ ই লেখা~ “একাত্তরের জননী” গ্রন্থে।

তবে এতটুকুতেই এই নারীর জীবন সংগ্রামের গল্প শেষ নয়। আরো আছে।।

হঠাৎ ই ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর রাতে মারা যান তারঁ পুত্র সন্তান সাগর। তিনি তারঁ একাত্তরের জননী গ্রন্থের ২১১ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “ঘরে আলো জ্বলছিল হ্যারিকেনের। সেই আলোয় সাগরকে দেখে ছটফট করে উঠি। দেখি তার নড়াচড়া নেই, সোজা চিৎ হয়ে শুয়ে আছে সে। মা ছটফট করে উঠে বিলাপ ধরে কাঁদতে থাকেন, `আঁর ভাই নাই, আঁর ভাই গেইয়্যে গোই” (আমার ভাই নেই, আমার ভাই চলে গেছে)।”(উইকিপিডিয়া)

১৯৭২ সালেরই ১৫ ফেব্রুয়ারি ঠিক একই অসুখে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তারঁ দ্বিতীয় সন্তান টগর। আর তারঁ তৃতীয় সন্তান টুনু ১৯৯৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কানুনগোপাড়ায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়। বিধাতা কতটা নিষ্ঠুর হলে এক মায়ের থেকে তারঁ তিন তিন টে সন্তানকে কেড়ে নিতে পারেন তারঁ জলজ্যান্ত উদাহরণ বোধ হয় তিনি ই। যখন একজন নারী তারঁ জীবনের সব বিভৎস কালো অধ্যায়গুলোকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারঁ সন্তানদের বুকে আগলে। তখন নিষ্ঠুর বিধাতার সেটাও সহ্য হলো না। তিনি সে সন্তানদের ও কেড়ে নিলেন।

হিন্দু শাস্ত্রের রীতি অনুযায়ী যেকোন শব ই (মৃতদেহ) দাহ(পোড়াতে) করতে হয়। কিন্তু হিন্দু শাত্রের এই শব দাহ করবার বা পোড়ানোতে বিশ্বাস করতেন না রমা চৌধুরী। আর তাই তো তিনি তারঁ তিন সন্তানকেই দিয়েছেন— মাটিচাপা।

আর মুক্তিযুদ্ধের পর টানা চার বছর জুতো পড়েননি রমা চৌধুরী। শুধুমাত্র আত্মীয় স্বজনদের অনেক কাকুতিমিনতির জন্য একপ্রকার বাধ্য হয়েই জুতো পড়া শুরু করেন। কিন্তু তাও আবার অনিয়মিতভাবে।।

তারঁ তৃতীয় সন্তান, টুনু মারা যাবার পর আবারো ছেড়ে দিয়েছিলেন জুতো পায়ে দেয়া। এরপর ১৫ বছর ধরে জুতো ছাড়াই চলেন রমা চৌধুরী।

রমা চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন , “আমার ছেলেদের আমি পোড়াতে দিইনি। এই মাটিতে তারা শুয়ে আছে। আমি কীভাবে জুতা পায়ে হাঁটি। পারলে তো বুক দিয়ে চলতাম–ফিরতাম। আমি জুতো পায়ে চললে তারা কষ্ট পাবে।”

রমা চৌধুরী দ্বিতীয়বার সংসার জীবনে আবদ্ধ হন। ভেবেছিলেন, তারঁ জীবনের সব দু:খের অবসান ঘটবে। কিন্তু তাও খুব একটা সুখের হয়নি। দ্বিতীয় সংসার বাঁধতে গিয়ে হলেন প্রতারণার শিকার। আর একটু আগে যে টুনুর কথা বলেছিলাম, সে টুনু ই তারঁ দ্বিতীয় সংসার জীবনের সন্তান। সে মারা যাবার পর, অর্ধ উন্মাদ ই হয়ে যান রমা চৌধুরী। তবে তারঁ তিন সন্তান গত হলেও জওহর লাল চৌধুরী নামে তারঁ আরো এক সন্তান রয়েছে বলে জানা যায়। তবে এত্ত শত কিছুর পরো রমা চৌধুরী জীবন ছেড়ে দেন নি। লড়াই করে গেছেন শেষ অব্দি।

তিনি প্রায়ই একটা কথা বলতেন—

“মুক্তিযুদ্ধ আমার কাঁধে ঝোলা দিয়েছে। আমার খালি পা, দুঃসহ একাকীত্ব মুক্তিযুদ্ধেরই অবদান। আমার ভিতর অনেক জ্বালা, অনেক দুঃখ। আমি মুখে বলতে না পারি, কালি দিয়ে লিখে যাব। আমি নিজেই একাত্তরের জননী”।।

আবার তিনি তারঁ ‘একাত্তরের জননী’ বইয়ের মুখবন্ধে লিখেছেন, ‘সবদিক ভেবে দেখলে একাত্তরের জননী আমি নিজেই। পাক হানাদার বাহিনী আমাকে প্রাণে না মারলেও আমার আত্মার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে, যার ফলে নেমে এসেছে জীবনে শোচনীয় পরিণতি। আমার দুটি মুক্তিপাগল অবোধ শিশুর সাধ স্বপ্ন আশা আকাঙ্ক্ষা ভরা জীবন কেড়ে নিয়েছে বাংলার মুক্তিসংগ্রাম।’

রমা চৌধুরীর মোট ১৮টি বই প্রকাশিত হয়েছে। সমালোচনা সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক স্মৃতিকথা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকালীন ইতিহাস গ্রন্থ, গল্প, উপন্যাস, লোক-সংস্কৃতিবিষয়ক গ্রন্থ, প্রবন্ধ এবং ছড়া থেকে শুরু করে ইত্যাদি ইত্যাদি প্রায় সকল শাখাতেই লিখেছেন।

রমা চৌধুরীর প্রবন্ধ সংকলনগুলো হচ্ছে—-

“ রবীন্দ্র সাহিত্য ভৃত্য, নজরুল প্রতিভার সন্ধানে, সপ্তরশ্মি, চট্টগ্রামের লোক সাহিত্যের জীবন দর্শন, অপ্রিয় বচন, যে ছিল মাটির কাছাকাছি, ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ, নির্বাচিত প্রবন্ধ।।”
আর উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে ৩টি। এগুলো হচ্ছে— “একাত্তরের জননী, লাখ টাকা, হীরকাদুরীয়”।।

কাব্যগ্রন্থ—- “স্বর্গে আমি যাব না, শহীদের জিজ্ঞাসা, ১০০১ দিন যাপনের পদ্য।।”

“নীল বেদনার খাম” তারঁ পত্র সংকলন।।

আর তারঁ স্মৃতিকথামূলক সৃষ্টি রয়েছে ২টি—”সেই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্মৃতির বেদন অশ্রু ঝরায়।।”

তারঁ গল্প সংকলনগুলো হচ্ছে— “আগুন রাঙ্গা আগুন ঝরা, অশ্রুভেজা একটি দিন।।”

রমা চৌধুরী খালি পায়ে হেঁটে নিজেরই লেখা বই বিক্রি করে চলতেন।
২০ বছর ধরে লেখ্যবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নিয়ে বই কাধেঁ ঘুরে বেড়াতেন চট্টগ্রামের রাস্তায় রাস্তায়। যদিও বা তাঁর এ লেখ্যবৃত্তির পেশা একেবারেই স্বনির্বাচিত ও স্বতন্ত্র। তিনি প্রথমে একটি পাক্ষিক পত্রিকায় লিখতেন। বিনিময়ে সম্মানীর বদলে পত্রিকার ৫০টি করে কপি পেতেন। সেই পত্রিকা বিক্রি করেই চলত তাঁর জীবন-জীবিকা। পরে নিজের লেখা বই নিজেই প্রকাশ করে বই ফেরি করতে শুরু করেছিলেন। তাঁর সমস্ত বইয়ের প্রকাশক আলাউদ্দিন খোকন ছায়াসঙ্গী হিসেবে সবসময়ই তাঁর পাশে থেকেছেন।

আর মজার ব্যাপার হচ্ছে— রমা চৌধুরী তার ৮টি বই উৎসর্গ করেছেন তার ৮টি বিড়ালকে। এমনই বিড়ালপ্রেমী ছিলেন তিনি।নিজের সন্তানের মতো করেই এই বিড়ালদের যত্ন করতেন তিনি। এগুলোকে নিজ হাতে খাওয়াতেন,গোসল করাতেন।

গতকাল, ৩রা সেপ্টেম্বর সোমবার ভোর সাড়ে ৪টা নাগাদ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশের একাত্তরের জননী খ্যাত জীবন সংগ্রামী এই লেখিকা মৃত্যুবরণ করেন।

বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন জীবনসংগ্রামী এই লেখিকা। আস্তে আস্তে তারঁ শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। গত রবিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ করেই তারঁ শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হয়।

সে রাতেই রমা চৌধুরীকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। আর গতকাল ভোরেই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।

গতকাল সোমবার সকাল ১০টার পর রমা চৌধুরীর মরদেহ নগরীর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। সেখানেই তাকেঁ দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় সন্মান, গার্ড অব অনার। পরবর্তীতে দুপুরের দিকে তারঁ মরদেহ গ্রামের বাড়ি বোয়ালখালীর পোপাদিয়ায় নেয়া হয়।। সেখানে তারঁ পুত্র টুটুনের কবরের পাশেই সমাহিত করা হয় তাকেঁ।

উল্লেখ্য, তিনি বহুদিন ধরেই কোমরে পাওয়া আঘাত, গলব্লাডারে পাথর, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্টসহ বেশ কিছু শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। আর সবশেষ তাকেঁ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।

রবি ঠাকুরের ভাষায় ভীষণভাবে গাইতে ইচ্ছে হয়—

“তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম
নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমানিশীথিনী-সম।।
মম জীবন যৌবন মম অখিল ভুবন
তুমি ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী-সম।।”

সত্যি ই তাই, একাত্তরের জননী খ্যাত এই জীবন সংগ্রামী নারী রমা চৌধুরী নীরবেই থাকবেন তারঁ ভক্তদের হৃদয়ে কিংবা তারঁ প্রিয় শহর চট্টগ্রামের আনাচে-কানাচে। তাকেঁ আর কখনোই চট্টগ্রামবাসী দেখতে পাবেন না পায়ে হেটেঁ চট্টগ্রামের রাস্তায় বই বিক্রী করতে।।

ওপারে ভালো থাকবেন ~ প্রিয় একাত্তরের জননী। চ্যানেল আগামী পরিবারের পক্ষ থেকে রইল বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here