বদরুল ইসলাম :

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)’র আয়োজনে শুক্রবার সকাল ১০টায় বরগুনা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে “বরগুনা নদনদী ও পরিবেশ: আমাদের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি সুখরঞ্জন শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এর সদস্য ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শারমিন মুর্শিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তাইন বিল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহজাহান হোসেন ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য শরিফ জামিল।

রচনা সভার শুরুতে “বরগুনা নদনদী ও পরিবেশ: আমাদের করণীয়” শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ আন্দোলনের সদস্য সচিব সাংবাদিক মুশফিক আরিফ।

বরগুনা নদনদী ও পরিবেশ: আমাদের করণীয় শীর্ষক প্রবন্ধে খাকদোন নদী- ভারানি খাল উদ্ধার, বিষখালী ও পায়রা নদীর বর্তমান অবস্থা, কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, হুমকির মুখে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, ভয়াবহ মাদক পরিস্থিতি, পৌর শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি পরিবেশগত বিষয়ে উত্থাপিত হয়।

আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন এর সদস্য ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শারমিন মুর্শিদ, বরগুনা জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তাইন বিল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেন, বরগুনা পৌরসভার মেয়র শাহাদাত হোসেন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি চিত্তরঞ্জন শীল, মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর সভাপতি আনোয়ার হোসেন মনোয়ার, বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন বরগুনা় জেলা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেন মিরাজ, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু, জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি ও লোকো বেতার স্টেশন ম্যানেজার মনির হোসেন কামাল, সনাকের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রব ফকির, খেলাঘর কর্মী ইসমাইল হোসেন, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য সুমন হাওলাদার, বিডি ক্লিন বরগুনা জেলা কমিটির আহ্বায়ক সুদেব বিশ্বাস প্রমুখ।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, একের পর এক দখলের মুখে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময় খরস্রোতা খাকদোন নদী ও ভাড়ানী খাল। বরগুনার ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম নৌ পরিবহন এর উপর নির্ভরশীল ছিল। নাব্যতা সংকট এবং তীর দখলের মুখে হারিয়ে যাওয়ার কারণে খাকদোন নদী দিয়ে চলাচলে বাধার মুখে পড়েছে। অপরদিকে এ নদীর প্রধান শাখা ভাড়ানী খালের মাধ্যমে তালতলী উপজেলা সঙ্গে একমাত্র নৌ যোগাযোগ যা ছিল তাও বন্ধ হয়ে গেছে। খাকদোন নদী ও ভারানি খাল দখলমুক্ত করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে বরগুনার পরিবেশ চরম বিপর্যস্ত হবে বলেন বক্তারা মনে করেন।

বক্তারা বরগুনার ভয়াবহ মাদক সমস্যা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বরগুনার এই মুহুর্তের সর্বাধিক আলোচিত এবং ভয়ঙ্কর অশনি সংকেত মাদক। মাদকের ছোবলে বরগুনার প্রজন্ম এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তারা আরো বলেন, বরগুনার মাদক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বরগুনা এখন ‘নিউ টেকনাফ’ এ পরিণত হয়েছে।

বরগুনা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, শহরের জনবহুল এলাকাগুলোতে নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। যার ফলে পরিবেশ চরমভাবে দূষিত হচ্ছে। বক্তারা আরো, বলেন শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় বর্ষার মৌসুমে পানিবন্দি হয়ে থাকতে হয় নাগরিকদের। সকল ড্রেন কোন না কোন ব্যক্তির দখলে চলে যাওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ তা সঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারছে না। এ সকল ড্রেন অবমুক্ত করে পরে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা কার্যকর করার প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

বিষখালী ও পায়রা নদীর বর্তমান অবস্থা প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন বরগুনার ৬ টি উপজেলার কয়েক হাজার জেলে পরিবার এই নদীর উপর নির্ভরশীল। মৎস্য শিকার মাধ্যমে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং এই মানব সৃষ্ট নানা কারণে পায়রা বিষখালী নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। নদীর মাঝে বড় বড় চর জেগে ওঠায় নৌচলাচল চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আলোচনা সভা শেষে বরগুনার পরিবেশ আন্দোলন নামক সংগঠনটি বিলুপ্তি ঘোষণা করে সুখরঞ্জন শীল আহ্বায়ক ও মুশফিক আরিফকে সদস্যসচিব করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)র আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here