ইভান পাল

গত ৫ ই জুলাই শুক্রবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের থিয়েটার ইন্সটিটিউটে  বোধন আবৃত্তি স্কুলের আয়োজনে তাঁদের ৫১তম ব্যাচের ( অনন্য ৫১) জাগো সুন্দর  অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।।


বোধনের প্রশিক্ষণার্থীদের সৃজনশীল ধারণাকে জাগিয়ে তোলা এবং সেইসাথে তাঁদের মঞ্চে অভ্যস্থ করে তোলার এক অসাধারণ প্রয়াসই হলো বোধনের এই ‘জাগো সুন্দর’ অনুষ্ঠান।।

 

গত শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত নগরীর থিয়েটার ইন্সটিটিউটের গ্যালারি হলে বোধনের এই জাগো সুন্দর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বোধনের অনন্য ৫১ আবর্তনের প্রশিক্ষণার্থীরা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ভাষা আন্দোলনের কবিতা সমূহ একে একে পাঠ করেন।।  

কান্তা বন্দ্য এবং অনামিকা সেনের সঞ্চালনায় আবৃত্তি পরিবেশনায় ছিলেন —- প্রশিক্ষণার্থী ঋতু সাহা, সুস্মিতা মজুমদার, নার্গিস ফাতেমা, শামীমা আকতার, অনন্যা দেবী, নীলা রায়, তাসলীমা আকতার, হিতৈষী চাকমা, সিনথিয়া হোসেন, নীলাচল চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম, রিমঝিম দে, ফারহানা হক,  অর্পিতা চৌধুরী, শাহজাহান আবিদ, তানজীন,প্রজ্ঞা বড়ুয়া, মোনিকা তালুকদার, মাছুম বিল্লাহ, পাপিয়া দাস, রুপন দে, তিথি চৌধুরী, ইভান পাল, নার্গিস ফাতেমা, সিদরাতুল মুনতাহা, কাজী মোহাম্মদ তারেক, জিয়াত উদ্দিন ও রিমি মুৎসুদ্দি।।

জাগো সুন্দরের এ আয়োজন প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী এবং বোধন আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি সোহেল আনোয়ার আগামীর এ প্রতিনিধিকে জানান,

‘জাগো সুন্দর চির কিশোর’ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাটক। সেই  নাটকের গান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে, বলা যায় ধার করে এই অনুষ্ঠানের নাম ‘জাগো সুন্দর’।

দীর্ঘদিন জাগো সুন্দর হয়ে আসছে বোধন আবৃত্তি স্কুলে। দিন দিন আমরা জাগো সুন্দরকে আরো আড়ম্বরপূর্ণ করে তুলছি। এর শিল্পী সকলেই বোধনের চলতি আবর্তনের শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের মঞ্চে অভ্যস্থ করে তোলার প্রয়াস ‘জাগো সুন্দর’।  শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজক। প্রত্যেকেই একক আবৃত্তিতে  অংশগ্রহণ করেন। আবৃত্তি নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্যও থাকে তাঁদের জন্য। মূলত মঞ্চে সাহসের সঙ্গে, আত্মবিশ্বাসের সাথে দাঁড়ানোর একটি প্রাথমিক মঞ্চ ‘জাগো সুন্দর’।

এই ‘সুন্দর’ হলো– আমাদের ভেতরের চেতনা, আমাদের অসাম্প্রদায়িকতা, আমাদের শিল্পীসত্তা, আমাদের সৃজনশীলতা, আমাদের বোধ।

আমাদের প্রত্যাশা প্রত্যেক নবীন শিল্পীর ভেতর জেগে উঠবে আমাদের অন্তর্নিহিত এই মৌন সৌন্দর্য।

নজরুলের যে গানটি থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে আবৃত্তির এই নান্দনিক প্রয়োগপ্রচেষ্টা, সেই গানটি —–

‘জাগো সুন্দর চিরকিশোর

জাগো চির-অমলিন দুর্জয় ভয়-হীন

আসুক শুভদিন, হোক নিশি-ভোর॥

অগ্নি-শিখার সম সূর্যের প্রায়

জ্বলে ওঠো দিব্যজ্যোতির মহিমায়,

দূর হোক সংশয়, ভীতি, নিরাশা,

জড়-প্রাণ পাষাণের ভাঙো ঘুমঘোর॥

জাগো সুন্দর চিরকিশোর।’

বোধন আবৃত্তি পরিষদের সহ-সভাপতি সুবর্ণা চৌধুরী বলেন, “আজকের আয়োজনটি প্রশংসার দাবিদার। তবে প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেদের আরেকটু পরিচর্যা করলে বোধের পরিসর বাড়বে। আমরা একটি অসম্প্রদায়িক, মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে চাই।।

সৃষ্টিশীল এবং নান্দনিক এ আয়োজনে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বোধন আবৃত্তি পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক ইসমাইল চৌধুরী সোহেল।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বোধন আবৃত্তি স্কুলের প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও নির্দেশক সঞ্জয় পাল।।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন — মৃণ্ময় বিশ্বাস, গৌতম চৌধুরী, পল্লব গুপ্ত, অনুপম শীল, পলি ঘোষ, সাজেদুল আনোয়ার,

বিপ্লব কুমার শীল, প্রতীম দাশ, শিশির বড়ুয়া, শুভাগত বড়ুয়া, সাদেকুর রহমান সবুজ, সাজ্জাদ চৌধুরী প্রমুখ।।

উল্লেখ্য, বোধন বাংলাদেশের প্রথম আবৃত্তি স্কুল। দেশ বরেণ্য আবৃত্তিশিল্পী প্রয়াত রণজিত রক্ষিতের ই হাতেগড়া প্রতিষ্ঠান এই ” বোধন  আবৃত্তি স্কুল”।।

বোধনের মতে—

” বোধ থেকে বোধন ” কিংবা “ আধাঁর ভেঙ্গে আলোর বুনন”।।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here